গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের ওপর হামলা: উত্তাল রাজপথে জোনায়েদ সাকির হুঁশিয়ারি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে বারবার। ১৯৫০-এর দশকে যখন ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষের স্বাধিকার সংগ্রামের সূচনা হয়, তখন থেকেই সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের ওপর হামলাকে গণতন্ত্রের ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের (জিএসএ) প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় 'দৈনিক আজাদ' বা 'ইত্তেফাক' যেমন শাসকের কোপানলে পড়েছিল, তেমনি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধেও সাংবাদিকদের আত্মত্যাগ ছিল বর্ণনাতীত। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সংবাদমাধ্যম ছিল প্রতিবাদের মূল শক্তি। তবে ২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লবের পর ২০২৫ সালে এসে দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর 'মব ভায়োলেন্স' বা দলবদ্ধ হামলা এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ১২ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হলে দেশজুড়ে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ে। এই শোক ও ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে একদল গোষ্ঠী প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, "গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের ওপর হামলা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রায় ছিল বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে, যেখানে সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু আজ আমরা কী দেখছি? রাতের বেলা ঘোষণা দিয়ে পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর সরকার রহস্যজনকভাবে নীরব থাকছে।"
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ওসমান হাদি হত্যার বিচার বাংলাদেশের মানুষ চায়, কিন্তু সেই শোককে পুঁজি করে যারা গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলা চালাচ্ছে, তারা আসলে নিজেরাই আরেকটি 'ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী' হয়ে উঠতে চায়।
জোনায়েদ সাকি দাবি করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার পেছনে পতিত ফ্যাসিবাদের হাত রয়েছে। তিনি বলেন, "পতিত ফ্যাসিষ্টরা বাংলাদেশে একটি অরাজকতা সৃষ্টি করে প্রমাণ করতে চায় যে, তারা না থাকলে দেশ অচল হয়ে যায়। তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়।" তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, যদি ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার করা না হয় এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তবে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর বিজয় নগরে গুলিবিদ্ধ হন এবং সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান। তার জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে এবং সরকার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করে। কিন্তু এর পরবর্তী সহিংসতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
১৯৫০ সাল থেকে চলে আসা বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলন থেকে ২০২৫-এর এই 'ধর্মবাদী' বা 'জাতিবাদী' ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই—সবকিছুর মূল লক্ষ্য একটাই, সেটি হলো গণতন্ত্র। সাকি বলেন, "মানুষ আওয়ামী লীগের জাতিবাদী ফ্যাসিবাদ গ্রহণ করেনি, তেমনি কোনো ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদকেও গ্রহণ করবে না।" তিনি মনে করেন, ২০২৫ সাল হবে বাংলাদেশের জন্য এক বড় পরীক্ষা—যেখানে বিচার, সংস্কার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা না গেলে জুলাইয়ের শহীদের রক্তের ঋণ শোধ হবে না।
বিশ্লেষণ: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সালের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গণমাধ্যম যখনই আক্রান্ত হয়েছে, তখনই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে সংবাদপত্রের ওপর হামলা ও 'সিলেক্টিভ মোরালিটি'র যে সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, তা ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশকে কলুষিত করতে পারে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই 'মব ভায়োলেন্স' কঠোর হাতে দমন করতে হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: ১. দৈনিক যুগান্তর (জাতীয় রাজনীতি ও বিশেষ প্রতিবেদন, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও প্রথম আলো অনলাইন ডেস্ক (২২ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. উইকিপিডিয়া: ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ও ডিসেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ ভায়োলেন্স আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |